মায়ের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণে নাবিলের সোনালী সাফল্য


নিজের জীবনে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। নানা সামাজিক বাস্তবতার বেড়াজালে থেমে গিয়েছিল নিজের পড়াশোনা। কিন্তু সেই স্বপ্নকে সযত্নে লালন করে সন্তানের মাধ্যমে তা সত্যি করতে চলেছেন মা নুর জাহান। তার সেই স্বপ্নেরই প্রতিচ্ছবি যেন ছেলে তাকরিম হোসেন নাবিলের এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। মায়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অংশ হিসেবে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এপ্লাস অর্জন করেছে নাবিল। সে কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

নাবিল উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের সাম মাঝির বাড়ির প্রবাসী ওসমান গণির ছেলে। তার মা নুর জাহান একজন গৃহিণী। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এক গৃহিণী হলেও তার বুকে ছিল এক অপূর্ণ স্বপ্নের দীর্ঘশ্বাস। মেধাবী ছাত্রী নুর জাহান ২০০৩ সালে আনোয়ারা গুয়াপঞ্চক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ‘এ’ গ্রেড পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। শিক্ষক হওয়ার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কাছে হার মানতে হয় তাকে। কলেজে পড়ার জন্য কান্নাকাটি করেও সফল হননি, পরের বছরই বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে।

বিয়ের পর নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো তিনি বুনতে শুরু করেন তার দুই সন্তানকে ঘিরে। বড় মেয়ে আবিদা জান্নাত ত্বোহা বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে মানবিক বিভাগে অধ্যয়নরত। আর একমাত্র ছেলে নাবিলকে তিনি কেবল একাডেমিকভাবে সফলই নয়, একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ব্রত নেন।

মায়ের সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছে নাবিল। তার এই গোল্ডেন এপ্লাস প্রাপ্তি যেন মায়ের সেই হার না মানা মানসিকতারই জয়। দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর পাশের হার ৭৫.১৪%। স্কুল থেকে মোট ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে নাবিলের গোল্ডেন এপ্লাস প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে এক বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর।

নাবিলের এই সাফল্যে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। মা নুর জাহান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার নিজের যা কিছু অপূর্ণতা ছিল, আমি চেয়েছি আমার সন্তানরা যেন তা পূরণ করে। নাবিলের এই ফল আমার সেই স্বপ্নকেই সত্যি করেছে। আমি চাই সে একজন সত্যিকারের মানুষ হওয়ার পাশাপাশি দেশের ও মানুষের সেবা করবে।”

প্রবাসে থাকা বাবা ওসমান গণিও ছেলের এমন সাফল্যে গর্বিত। মায়ের ত্যাগ এবং ছেলের কঠোর পরিশ্রমের এই সোনালী ফসল আজ পুরো পরিবারকে এক অনাবিল আনন্দ ও গৌরবে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।