
চট্টগ্রামে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ ১১ টুকরো করে গুমের চেষ্টার অভিযোগে তার স্বামী সুমনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র্যাব।
শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত বুধবার রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফাতেমা বেগম পলি (৩২) নামের ওই নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
শনিবার সকালে র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। গত ৯ জুলাই রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ পাহাড়িকা হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রী ফাতেমা বেগম পলিকে দুটি ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন সুমন। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ১১ টুকরো করে বাথরুমের কমোডে ফেলে ফ্লাশ করে ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, “ফ্ল্যাটের নিরাপত্তাকর্মী মশিউর রহমান ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ এবং অস্বাভাবিক শব্দ শুনে ১০ তলায় যান। তিনি প্রায় ৩০ মিনিট ডাকাডাকির পর সুমন দরজা খোলেন। শব্দের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এলোমেলো কথা বলেন এবং নিরাপত্তাকর্মীকে বাসায় ঢুকতে বাধা দেন। পরে মশিউর জোর করে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ এবং বাথরুমের কমোডে মাংসের টুকরো দেখতে পান।”
লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান আরও বলেন, “নিরাপত্তাকর্মী মশিউর বাইরে থেকে ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ করে নিচে নামলে সুমন গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থল থেকে ফাতেমার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।”
এ ঘটনায় ফাতেমার বড় ভাই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন রুবেল বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সুমনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার সুমন র্যাবকে জানিয়েছেন, ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি সৌদি আরবে গেলেও ভিসার জটিলতায় গত বছরের মাঝামাঝি দেশে ফিরে পিকআপ চালানো শুরু করেন। দেশে ফেরার পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার দিন রাতে বাসায় অজ্ঞাত ৬-৭ জন যুবক আসাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
নিহত ফাতেমা বেগম পলির বাবার বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায়। গ্রেপ্তার সুমনের বাড়িও একই এলাকায়। সিফাত নামে তাদের আট বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
