
চাঁদাবাজি ও জুলুম-নির্যাতন বন্ধ না করলে বিএনপির অবস্থাও আওয়ামী লীগের মতো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
শুক্রবার চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক গণসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি পটিয়া আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেন।
নুর বলেন, “বর্তমানে বিএনপিতেই চাঁদাবাজি ও দখলবাজির জেরে তাদের ১৫০ নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া তারা চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানান অভিযোগে তাদের ৫ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। যদি তারা ক্ষমতায় আসার আগেই এসব বন্ধ না করে, তাহলে তাদের অবস্থাও আওয়ামী লীগের মতোই হবে।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘চরম অস্থিতিশীল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গত ৫ অগাস্টের পরে সারা দেশে ১১ হাজারের উপরে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ঢাকার মিটফোর্ডের পৈশাচিক খুনের ঘটনা আমাদের বিবেককে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে।”
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে নুর বলেন, “বিগত ১৬ বছর শেখ হাসিনার দল খুন, জুলুম, নির্যাতন এবং গুমের মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের কারণেই তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।”
সমাবেশে তিনি পটিয়ায় ব্যাংকারদের চাকরিচ্যুতির নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান।
এ সময় নুর চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে ডা. এমদাদুল হাসানের নাম ঘোষণা করেন এবং তাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
গণ অধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক ডা. এমদাদুল হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আব্দুস জাহের, আবু হানিফ, জসিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার ডলি।
এছাড়াও সমাবেশে শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রহমান, যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্লাবন আহমদ, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সম্রাটসহ চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
