ফটিকছড়িতে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে ভাশুর আটক


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে এক সহকারী শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগে তার ভাশুরকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে ফটিকছড়ি থানার ওসি নুর আহমেদ জানিয়েছেন।

আটক মো. হুমায়ুন কবির (৪৫) উপজেলার উত্তর রোসাংগিরি ইউনিয়নের আলম বাড়ির বাসিন্দা। ভুক্তভোগী হালিমা নাসরীন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং হুমায়ুনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগের বরাতে ওসি জানান, হালিমা নাসরীনের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী। তার কাছে ভাই হুমায়ুন কবির ৫০ লাখ টাকা পাবেন বলে দাবি করে আসছিলেন।

এরই জেরে রোববার ক্লাস চলাকালে হুমায়ুন কবির চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের সামনেই হালিমা নাসরীনকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হালিমা নাসরীন বলেন, “আমার স্বামীর কাছে টাকা পাবে দাবি করে ক্লাসের সব ছাত্রছাত্রীর সামনে আমাকে হেনস্তা ও মারধর করে। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে মারতে আসে। এর চেয়ে মরে যাওয়াও ভালো ছিল। আমি এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম বলেন, “আমি নিজে এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। একজন শিক্ষক যদি ক্লাসে পাঠদান করতে গিয়ে এভাবে আক্রান্ত হন, তাহলে এই পেশা অনিরাপদ হয়ে পড়বে। পারিবারিক ঝামেলা থাকতেই পারে, কিন্তু তা বিদ্যালয়ে কেন আসবে?”

ঘটনার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তার নির্দেশে থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবিরকে আটক করে।

ফটিকছড়ি থানার ওসি নুর আহমেদ বলেন, “শিক্ষক মারধরের ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযুক্তকে আটক করেছি। তবে যেহেতু বিষয়টি তাদের পারিবারিক, ভুক্তভোগী শিক্ষিকা পরিবারের জিম্মায় বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”