
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর ২১ দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা এটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে সন্দেহ করে আদালতে মামলা করার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সোমবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশটি তোলা হয়।
গত ২৪ জুন লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের সাতগড়িয়া পাড়ার একটি মাঠ থেকে সাজিদ (১৩) নামের ওই ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে’ বলে প্রচার চালিয়ে দ্রুত দাফন করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ ঘটনায় সাত দিন পর, গত ১ জুলাই শিশুটির বাবা মো. মাঈনুদ্দিন আজাদ চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শিশুটির আরবি শিক্ষক নাছির উদ্দিন এবং শিশুটির নানা আবুল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করতে লোহাগাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী আজাদ অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলের নানা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়, যা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ লোপাটের একটি চেষ্টা।”
তিনি বলেন, “আমার ছেলের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য আমি আদালতে মামলা করেছি, যেন লাশ ময়নাতদন্ত করে সঠিক বিচার করা হয়।”
লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, “আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে সাজিদের লাশ উত্তোলন করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।”
লাশ উত্তোলনের সময় লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন লায়েল এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আব্বাস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
