
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভোটার তালিকা হালনাগাদের পারিশ্রমিক বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করা কর্মীরা, যাদের অধিকাংশই শিক্ষক, এই অভিযোগ তুলেছেন।
তাদের দাবি, পার্শ্ববর্তী উপজেলার তুলনায় তাদের কম হারে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে, পূরণ করা ফরমের সংখ্যা কম দেখিয়ে অর্থ কর্তন করা হয়েছে এবং বিশেষ ফরমের জন্য কোনো টাকাই দেওয়া হয়নি। তবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী শিক্ষক জানান, ফটিকছড়ি, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার মতো পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে ভোটার প্রতি ৭৪ টাকা করে দেওয়া হলেও হাটহাজারীতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা করে। অর্থাৎ প্রতি ভোটারের জন্য ২৪ টাকা করে কম দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পূরণ করা ফরমের সংখ্যা নিয়েও নয়-ছয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নিজে মোট ৯৯টি ফরম পূরণ করেছিলাম, কিন্তু যখন টাকার জন্য গেলাম তখন উপজেলা নির্বাচন অফিস কিছু ফরম বাদ গেছে—এই দোহাই দিয়ে আমাকে টাকা কম দিতে চেষ্টা করে। পরে আমি চ্যালেঞ্জ করলে এবং আমার একটি ফরমও বাদ যায়নি বলে প্রমাণ দেখানোর কথা বললে তারা পুরো টাকা দেয়। শুধু আমি নই, প্রায় সবার কাছ থেকেই অন্তত বিশটা ফরমের টাকা তারা নানা অজুহাতে কেটে রেখেছে।”
আরেকজন শিক্ষক জানান, হাটহাজারীতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী মিলে প্রায় ২০০ জন কর্মী এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দিয়ে বিশেষ ফরম পূরণ করানো হলেও তার কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। অথচ অন্যান্য উপজেলায় কর্মীরা বিশেষ ফরমের টাকা পেয়েছেন। নির্বাচন অফিস আমাদের সঠিকভাবে বিশেষ ফরম সরবরাহও করেনি। আমি ১০০টি ফরম পূরণ করেছি, কিন্তু তারা আমাকে ফরম দিয়েছেন মাত্র ১০টি। বাকি ৯০টি ফরম আমার নিজের টাকায় ফটোকপি করে সরবরাহ করতে হয়েছে।”
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “প্রশিক্ষণের সময় বলা হয়েছিল প্রত্যেকের জন্য বিশেষ ফরম লাগবে, কিন্তু এখন বলা হচ্ছে হাটহাজারীকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করা হয়নি। যদি দরকারই না থাকে, তবে আমাদের দিয়ে কেন পূরণ করানো হলো?”
পারিশ্রমিক বিতরণের প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্মীরা জানান, অন্যান্যবার কম্পিউটার প্রিন্ট করা কাগজে নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে স্বাক্ষর নিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। কিন্তু এবার কাকে কত টাকা দেওয়া হচ্ছে, তা শুধু একটি সাদা কাগজে হাতে লিখে রাখা হচ্ছিল, যা পুরো প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এক শিক্ষক বলেন, “কারও হিসাবে ১ হাজার ৩০ টাকা প্রাপ্য হলেও তাকে ১১০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। এই বাড়তি ৭০ টাকা তারা কোথা থেকে দিলেন? পুরো বিষয়টি নিয়ে একটা হযবরল অবস্থা তৈরি হয়েছে।”
অভিযোগ অস্বীকার নির্বাচন অফিসের
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পরান্টু চাকমা বলেন, “কাউকে টাকা কম দেওয়া হয়নি। ফরমের তথ্য পূরণের পর ছবি তোলার কাজ শেষ না হলে সেই ফরম অসম্পূর্ণ ধরা হয়, অসম্পূর্ণ ফরমের টাকা কিভাবে পাবেন?”
বিশেষ ফরমের বিষয়ে তিনি বলেন, “‘বিশেষ ফরমের’ টাকা শুধু ‘সি ক্যাটাগরি’ ফাইলের জন্য প্রযোজ্য এবং এ উপজেলায় এমন ফরম মাত্র ৩৫টির মতো অনুমোদন করা হয়েছে। সবার জন্য এই টাকা নয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, “এবারের বাজেট সীমিত ছিল, তবুও আমরা কোনো দুর্নীতি ছাড়া কাজটি সম্পন্ন করেছি। হয়তো না বুঝে অনেকে এটা-সেটা বলছেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম মশিউজ্জামান জানান, তিনি এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, “কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
