ট্রাম্পের ঘোষণা : ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ শুরু, আহত ৪৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৪৯ ফিলিস্তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ চলাকালে এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ-ধর্মঘট করেছে। তাদের ঠেকাতে শত শত অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ইসরায়েল।

বিক্ষোভকারীদের গাড়ির টায়ার জ্বালানো এবং পাথর ছুড়ে মারার জবাবে ইসরায়েলি সেনারা টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়াসহ গুলিবর্ষণও করেছে।

গাজা থেকে ইসরায়েলে দুটো রকেটও ফিলিস্তিনরা ছুড়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।

রয়টার্স জানায়, গাজায় ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের সীমান্ত বেষ্টনী এলাকায় সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে। জবাবে তাদের ওপর গুলি ছুড়েছে ইসরায়েলি সেনারা।

জেরুজালেমসহ বেথলেহেম, রামাল্লাহ ও অন্যান্য শহরগুলোতেও বিক্ষোভ-সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে ৪৯ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।

ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন করে আরও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের দল হামাস এরই মধ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান শুরুর ডাক দিয়েছে।

হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার বিক্ষোভ-সমাবেশ করার জন্য ফিলিস্তিনি, মুসলিম এবং আরবদেরকে আহ্বান জানিয়ে দিনটিকে ‘ক্ষোভ দিবস’ বলে অভিহিত করেছেন।

গাজায় এক ভাষণে বৃহস্পতিবার হানিয়া বলেন, “দখলদারদের বিরুদ্ধে ৮ ডিসেম্বরই ফিলিস্তিনি গণঅভ্যুত্থানের প্রথম দিন হোক।” ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ‘শান্তি প্রক্রিয়ার মৃত্যু ঘটেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশও ট্রাম্পের পদক্ষেপের ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। ওদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আরব লিগও এর জবাবে তাদের করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আগামী দিনগুলোতে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।