
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার রাজনৈতিক ভূমিকার ‘সঠিক মূল্যায়ন’ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার নামে নামকরণের দাবি জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক একটি স্মৃতি পরিষদ।
বৃহস্পতিবার তার ৫২তম ‘শাহাদাত বার্ষিকী’ উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মরহুম এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরী স্মৃতি পরিষদ, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই দাবি জানায়।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এনাম হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ফজলুল কাদের চৌধুরীর ভূমিকাকে ‘বিতর্কিত’ করার জন্য ‘আধিপত্যবাদী ভারতকে’ দায়ী করা হয়েছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, “তৎকালীন সময়ে ‘র’ পরিচালিত বাংলাদেশের গুপ্তচরদের দিয়ে মরহুম এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর দেশপ্রেম ও স্বগৌরবে স্বাধীনতাযুদ্ধ সংঘঠিত করার সঠিক কথাটি ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এবং হিন্দুস্থান ও তার হাতের পুতুল মুজিব গংরা সেদিন জাতির মাঝে একটি মিথ্যা ইতিহাসের জম্ম দিয়েছিল।”
ফজলুল কাদের চৌধুরীকে ‘ইসলামী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার অন্যতম মহানায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং মেরিন একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
“পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার পরেও এই পর্যন্ত কোনও প্রতিষ্ঠান বা হল মরহুম এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে নামকরণ হয়নি। এইটি জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়,” বলা হয় বিবৃতিতে।
স্মৃতি পরিষদের বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে বলা হয়, “আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার বিগত সময়ের আগ্রাসী ভারত প্রযোজিত সকল মিথ্যা ইতিহাস আঁস্তাকুড়ে ফেলবে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “তিনি (ফজলুল কাদের) মুজিবের ষড়যন্ত্র মার্কা স্বাধীনতাতে বিশ্বাসী ছিলেন না, তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষ স্বগৌরবে স্বাধীনতা ভোগ করবে। কিন্তু মিথ্যাবাদী মুজিবের ভারত চক্রে তা ধূলিস্যাৎ হয়েছে।”
‘বর্তমান প্রজন্ম’ সঠিক ইতিহাস মূল্যায়ন শুরু করেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার নামে নামকরণের দাবি জানানো হয়।
