গুণগত চা উৎপাদনে সেরার মুকুট ফটিকছড়ির নেপচুন বাগানের


চা উৎপাদনের গুণগত মানোন্নয়ন বিষয়ক এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নেপচুন চা বাগান। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) আয়োজিত এই কোর্সে প্রথম স্থান অধিকার করে বাগানের জন্য এই কৃতিত্ব বয়ে আনেন সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আল মুহিত শেখ।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে গত ১২ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী ‘প্রিন্সিপালস অ্যান্ড প্রসেসেস অব কোয়ালিটি টি ম্যানুফ্যাকচারিং’ শীর্ষক এই সার্টিফিকেট কোর্সটি অনুষ্ঠিত হয়। গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদন, বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন চায়ের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনসহ নানা বিষয়ে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই কোর্সে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) কোর্সের সমাপনী দিনে বিটিআরআই-এর সেমিনার কক্ষে অংশগ্রহণকারী ৩৯ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে সনদপত্র ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের (পিডিইউ) পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং কোর্সের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরআই-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল আজিজ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাসুদ রানা, ড. শেফালি বুনার্জী এবং ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. অপু বিশ্বাস ও শোভন কুমার পাল। এর আগে, গত শনিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরোয়ার হোসেন এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেছিলেন।

ছয় দিনব্যাপী কোর্সের চূড়ান্ত মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন ফটিকছড়ির নেপচুন টি-এস্টেটস লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আল মুহিত শেখ। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন বালিশিরা টি ফ্যাক্টরির সহকারী ব্যবস্থাপক মাসুদ হাসান এবং ভাড়াউড়া টি ফ্যাক্টরির সহকারী ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান। এছাড়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থিব বড়ুয়া ও মাহাথির মোহাম্মদ এবং বুরজান চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে এই কোর্সে বিভিন্ন চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, উত্তরাঞ্চলের চা বাগান উদ্যোক্তা, পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্র চা চাষি এবং টি-ব্রোকার্স প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রথম স্থান অর্জনকারী মো. আল মুহিত শেখ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার নয়, এটি সমগ্র নেপচুন চা বাগান পরিবারের। বাগানের প্রতিটি কর্মীর মেধা, শ্রম ও ঘামের ফসল এই সাফল্য। আমরা প্রতিষ্ঠানকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।” এই অর্জনের ফলে ফটিকছড়ির চা শিল্পে আনন্দের বন্যা বইছে।