ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, রাউজানের অদম্য মুক্তার পাশে দাঁড়াবে কে?


প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে যে দারিদ্র্যকে হার মানানো যায়, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চট্টগ্রামের রাউজানের মেয়ে জান্নাতুল নাঈমা মুক্তা। বাবা দিনমজুর, থাকেন পাহাড়ের চূড়ার এক চিলতে টিনের ঘরে। কোনো প্রাইভেট শিক্ষক ছাড়াই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।

মুক্তা রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ইসলামিয়া নতুন পাড়া গ্রামের দিনমজুর আক্তার হোসেন ও বিবি আয়েশার মেয়ে এবং কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

মুক্তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের দুর্গম আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে তাদের বাড়ি। ছোট্ট একটি টিনের ঘরেই এই মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা।

মুক্তার মা বিবি আয়েশা বলেন, “অভাবের সংসারে মেয়েকে ভালো কোনো মাস্টারের কাছে পড়াতে পারিনি। যেখানে নিজেদের চলতেই কষ্ট, সেখানে মেয়েকে পড়ানোর খরচ দেব কীভাবে? কিন্তু আমার মেয়েটা মেধাবী, নিজের চেষ্টায় পড়েই এত ভালো ফল করেছে। এতে আমি অনেক গর্বিত। কিন্তু এখন চিন্তা, ওর সামনের পড়ালেখা কীভাবে চলবে।”

জান্নাতুল নাঈম মুক্তা জানায়, “ছোটবেলা থেকেই কষ্ট দেখে বড় হয়েছি। আমার মা আমার জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন। তিনি কৃষি কাজ করে আর মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে আমার পড়ার খরচ যুগিয়েছেন। আমার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার। দেশের মানুষের সহযোগিতায় আমি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চাই, কোনো বাধাই আমাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।”

কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুমন বড়ুয়া বলেন, “মুক্তা অত্যন্ত মেধাবী ও অদম্য একজন শিক্ষার্থী। তার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। তার মতো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।”

উচ্চশিক্ষার পথে দারিদ্র্য যেন মুক্তার স্বপ্নযাত্রাকে থামিয়ে না দেয়, এই প্রত্যাশা তার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর।