
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে মনোনয়ন সংক্রান্ত ‘গ্রীন সিগন্যাল’ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরগুলো ‘ক্লিকবেইট’ এবং ভিত্তিহীন। তিনি রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ সোমবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাদের নগরে নিজ বাসভবনে রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘গ্রীন সিগন্যাল’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুম্মাম কাদের বলেন, “সেনসেশনাল নিউজের জন্য এখন মানুষ যা খুশি তাই চাপিয়ে দিচ্ছে। আমি দেশের প্রায় সব সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলেছি, কেউই কোনো সিগন্যাল পাননি।”
তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “গতকাল রাতে আমার বাবার এক বন্ধু, যিনি চারবারের এমপি, আমাকে ফোন করে হেসে হেসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাবা, তোমার কি গ্রীন সিগন্যাল এসেছে?’ আমি বললাম, ‘চাচা, আমার তো আসেনি, আপনি পেয়েছেন?’ উনি বললেন, ‘এই জন্যই তো ফোন করলাম, আমিও পাইনি!’”
হুম্মাম মনে করেন, যতক্ষণ না দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করছেন, ততক্ষণ এসব খবর নির্ভরযোগ্য নয়।
রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন কারণে কিছুটা বিভাজন তৈরি হলেও নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে সবাই দলকে ভালোবেসে এক প্ল্যাটফর্মেই কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মিডিয়ার কাজ হলো ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ রাখা। কিন্তু গত ১৬-১৭ বছরে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হওয়ায় সেই সুযোগ অনেক সময় পাননি।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের কাজের মাধ্যমেই রাজনীতিবিদরা সঠিক পথে থাকবেন এবং দেশ নোংরা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসবে।
এছাড়া, নিজের পিতার মৃত্যুর বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বাবাকে প্রহসনমূলক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি চান আদালতেই যেন সেই ‘জুডিশিয়াল কিলিং’য়ের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার, সহ-সভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব, যুগ্ম সম্পাদক এম এ মতিন, অর্থ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার, দপ্তর সম্পাদক আরিফুল হাসনাত, সদস্য পান্থনিবাস বড়ুয়া, জগলুল হুদা, জাহেদ হাসান তালুকদার, ইসমাইল হোসেন নয়ন, তৈয়বুল ইসলাম, মুবিন বিন সোলাইমান, দেলোয়ার হোসেন, ফাহিম শাহরিয়ার এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
