জুলাই আন্দোলনে ৫ শহীদের পরিবার ও ৪৩ যোদ্ধাকে সম্মাননা দিল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব


গত বছর সংঘটিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত চট্টগ্রামের পাঁচ শহীদের পরিবার এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া ৪৩ জন জুলাই যোদ্ধাকে সম্মাননা জানিয়েছে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব। এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালারও আয়োজন করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এক ভিডিও বার্তায় চট্টগ্রামকে ‘জুলাই বিপ্লবের অন্যতম দুর্গ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম ছিল আমাদের অহংকার। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আমাদের মহান স্বাধীনতা ঘোষণা এবং গত বছরের ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী জুলাই আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই চট্টগ্রাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেস ক্লাবের এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের মানুষ জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে নতুন অনেক কিছু জানতে পারবে।

‘জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি সারাজীবনের একটি গ্রাফিতি’, —এমন মন্তব্য করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক ফরিদা খানম বলেন, ‘জুলাই মানেই স্বজন হারানোর মাস। যারা শহীদ হয়েছেন, তারা একদিন হয়তো এই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতেন—কেউ হতেন জেলা প্রশাসক, কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক কিংবা সাংবাদিক। তারাই ছিলেন জুলাই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধা।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যে কোনো সাহসী উদ্যোগের পাশে থাকব সবসময়। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান হবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে থাকবে মুক্ত চিন্তার জন্য উন্মুক্ত, আর আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।’

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই স্মৃতি উদযাপন উপকমিটির আহ্বায়ক সালেহ নোমান ও সদস্য সচিব মিয়া মোহাম্মদ আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস এম নসরুল কদির, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, নগর জামায়াতের সাবেক আমির শাহজাহান চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, এনসিপি চট্টগ্রামের মুখ্য সংগঠক ইমন সৈয়দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. মহিউদ্দিন, গণসংহতি আন্দোলনের চট্টগ্রামের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমী ও স্বপন মজুমদার প্রমুখ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফি আলম, শহীদ ওমর ফারুকের স্ত্রী সিমা আকতার এবং শহীদ ফয়সাল আহমদ শান্ত’র মা কোহিনুর আক্তারও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের পাঁচ শহীদের পরিবার ও ৪৩ জন জুলাই যোদ্ধার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ফটো প্রদর্শনী, জুলাই যোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা। ‘জুলাই থেকে যাত্রা-সংগ্রামের একতা’ শীর্ষক উম্মুক্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি হবে।