
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ব্যস্ততম এলাকা সাতকানিয়ার কেরানীহাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, যাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যানবাহন মালিক ও চালকরা। বিশেষ করে, ট্রাফিক সার্জেন্ট মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে মাসিক মাসোহারা আদায় এবং ঘুষ না দিলে মামলা দিয়ে হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত মাসোহারা দিলে গাড়ির কোনো কাগজপত্র না থাকলেও সমস্যা হয় না, কিন্তু যারা মাসোহারা দেন না, তাদের গাড়ি আটক করে হয়রানি করা হয়।
সম্প্রতি আব্দুল আজম নামে এক পিকআপ চালক অভিযোগ করেন, মাত্র এক হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সার্জেন্ট মাহফুজুর রহমান তাকে ১৩ হাজার টাকার মামলা দিয়েছেন।
এছাড়া, কামাল উদ্দিন নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালককে পুলিশ বক্সের ভেতর নিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগও রয়েছে এই সার্জেন্টের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসি বাস কর্মকর্তা জানান, সব কাগজপত্র হালনাগাদ থাকার পরেও কেরানীহাটের ট্রাফিক পুলিশকে মাসিক চাঁদা দিতে হয়, না দিলেই মামলা দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এখানকার দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) নুরুল আলম কয়েক মাস ধরে অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় সার্জেন্ট মাহফুজ ও তার সহযোগীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা বিভিন্ন পরিবহন সমিতি এবং পণ্যবাহী ট্রাক থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ।
এই চাঁদাবাজির কারণে পুলিশ বক্সের সামনেই অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড়িয়ে থেকে তীব্র যানজট সৃষ্টি করলেও ট্রাফিক পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয় না বলে জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট মাহফুজুর রহমান মাসিক টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যানজট নিরসনের পাশাপাশি অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ছুটিতে থাকা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “৫ আগস্টের আগে হয়তো কিছু সিস্টেম (মাসোহারা) ছিল, এখন নাই বললেই চলে। আমি ছুটিতে থাকার সুযোগে কিছু হতে পারে। কয়েকদিন পর ডিউটিতে ফিরে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখব।”
