সংসদের উচ্চকক্ষ ১০০ আসনের, ভোটে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সিদ্ধান্ত কমিশনের


জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ ১০০টি আসন বিশিষ্ট হবে এবং এর সদস্যরা জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে মনোনীত হবেন। তবে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো আপত্তি জানিয়েছে। তারা নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনয়নের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, কয়েকটি বামপন্থী দল দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের ২৩তম ও শেষ দিনের আলোচনায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আলোচনার শুরুতে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, আজই আলোচনা পর্বের সমাপ্তি টানা হবে এবং দ্রুত চূড়ান্ত ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে।

আলোচনায় সংসদের উচ্চকক্ষের গঠন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দেয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি দল ভোটের ভিত্তিতে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নেয়, অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের মিত্রজোটগুলো এর বিরোধিতা করে। দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তির ভার কমিশনের ওপর ছেড়ে দেয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ভোটের সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের নিজস্ব কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না, তবে এটি নিম্নকক্ষ থেকে আসা বিলগুলো পর্যালোচনা ও সংশোধনের সুপারিশ করতে পারবে। কোনো বিল এক মাসের বেশি আটকে রাখলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে এবং বিলের চূড়ান্ত অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা নিম্নকক্ষের হাতেই থাকবে।

বিএনপি এবং তাদের মিত্রদলগুলো ছাড়াও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উচ্চকক্ষ গঠনেরই বিরোধিতা করেছে। আজকের আলোচনায় বিএনপিসহ প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।