
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির স্থানীয় নেতারা আত্মগোপনে থাকায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি আসনে আগামী নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপিকে ঘিরেই আবর্তিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ‘মাইজভান্ডার দরবার শরীফ’ ও অসংখ্য কওমি মাদ্রাসা অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী ‘ভোট ব্যাংকে’ ভাগ বসাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। মাঠে তৎপর রয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীসহ আরও কয়েকটি ইসলামী দল।
ফটিকছড়ি ও ভূজপুর থানা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ আসনটিতে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ কয়েকটি কওমি মাদ্রাসা, ১৮টি চা বাগান এবং এশিয়ার বৃহত্তম দাঁতমারা রাবার বাগান।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এবং সর্বশেষ ‘ডামি নির্বাচনে’ বিজয়ী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি দুজনই আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলার ভয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী। একই অবস্থা ১৪ দলের শরিক ও ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দলগুলোরও।
এই সুযোগে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপির একাধিক নেতা
আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আসনে বিএনপিতে একাধিক নেতা মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন।
আলোচনায় রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী, একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার আলমগীর।
সারোয়ার আলমগীর গত ১৬ বছর ধরে ফটিকছড়িতে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন বলে তার অনুসারীরা বলছেন।
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, “গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করিনি। পেশাজীবী হিসেবে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করব।”
সারোয়ার আলমগীর বলেন, “ফটিকছড়ির মাটি বিএনপির জন্য উর্বর। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয়। আমার বিশ্বাস, দল এসব বিচারে আমাকে সুযোগ দেবে।”
কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারের ভাষ্য, “২০১৮ সালের নির্বাচনে দল আমার ওপর আস্থা রেখেছিল। আশা করছি, এবারও দল আমার ওপর সেই আস্থা রাখবে।”
একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে জামায়াত
বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর বিপরীতে একক প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিনকে এই আসনের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাদরাসা অধ্যুষিত এলাকাটিতে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর সমর্থন পেলে তিনি বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
নুরুল আমিন বলেন, “দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ। মানসিকভাবে প্রস্তুত। হাইকমান্ডও কাজ করতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, মাঠেই রয়েছি।”
মাঠে আছেন নেজামে ইসলামী নেতাও
ফটিকছড়ির রাজনীতিতে আলেম-ওলামাদের একটি বড় প্রভাব থাকায় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা হুসাইন মুহাম্মদ শাহাজাহান ইসলামাবাদী।
তিনি দাতাসংস্থা ‘এহইয়াউচ্ছুন্নাহ ফাউন্ডেশন’ এর চেয়ারম্যান এবং একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।
শাহাজাহান ইসলামাবাদী বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা একটি সৎ, ন্যায়ের পথে অটল এবং ইসলামী মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ নেতৃত্ব। আমি সবার দোয়ায় মনোনয়ন পেলে সেই চেষ্টাই করব ইনশাআল্লাহ।”
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী ফ্রন্টও এই আসনে প্রার্থী দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে, তবে এখনও কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
