
চট্টগ্রামের সাংবাদিকতা জগতের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, একুশে পত্রিকার সম্পাদক প্রয়াত আজাদ তালুকদারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে লোহাগাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি।
সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় লোহাগাড়া উপজেলার বটতলী মোটর স্টেশনে সংগঠনটির কার্যালয়ে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, আজাদ তালুকদার ছিলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিকতায় এক অকুতোভয় সৈনিক ও পথপ্রদর্শক। সত্য প্রকাশে তার আপসহীন ভূমিকা এবং ক্ষুরধার লেখনী গণমাধ্যম জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
২০২৩ সালের ২ আগস্ট মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ক্যানসারের কাছে পরাজিত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই সাহসী সাংবাদিক। তার অকাল প্রয়াণ চট্টগ্রামের সাংবাদিকতা জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
লোহাগাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম হোছাইন মেহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রয়াত সম্পাদকের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মারুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিল চৌধুরী, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক তাজ উদ্দিন, প্রচার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য এরশাদ হোছাইন।
সভাপতির বক্তব্যে এম হোছাইন মেহেদী বলেন, “আজাদ তালুকদার শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘একুশে পত্রিকা’ চট্টগ্রামের গণমাধ্যমে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকতে হয়।”
সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম বলেন, “আজাদ ভাইয়ের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাঁর সাহস। তিনি কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পেতেন না। সমাজের নানা অসংগতি, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কলম ছিল সর্বদা সোচ্চার। বিশেষ করে করোনা মহামারির শুরুতে চট্টগ্রামে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় তার উদ্যোগী ভূমিকা তাকে আজীবন অমর করে রাখবে।”
বক্তারা আরও বলেন, আজাদ তালুকদারের লেখনী ছিল শাণিত এবং তাঁর প্রতিটি প্রতিবেদন ছিল তথ্যনিষ্ঠ। তিনি তরুণ সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবেন। তার আদর্শকে ধারণ করে বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমেই তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
আলোচনা সভা শেষে আজাদ তালুকদারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা তাজুল ইসলাম।
আজাদ তালুকদার ১৯৭৮ সালের ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি একাত্তর টিভি, বৈশাখী টিভি, দৈনিক সকালের খবরসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে, যে ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
