‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা, আন্দোলনের শহীদরা ‘জাতীয় বীর’


ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বহুল প্রত্যাশিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রটি জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদকে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানকে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এই ঘোষণাপত্রটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২৮ দফার এই ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পটভূমি এবং সবশেষে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

ঘোষণাপত্রে বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়েছে, এই শাসনামলে সীমাহীন দুর্নীতি, গুম-খুন, অর্থ পাচার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। এতে আরও বলা হয়, বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের ফলেই এই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়, যা ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে ঘোষণাপত্রে কয়েকটি দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিগত ষোল বছরে সংঘটিত গুম, খুন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের দ্রুত ও উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা; জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সব ধরনের আইনি সুরক্ষা প্রদান; এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।