
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (এনআইসিইউ) অক্সিজেন না পেয়ে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। পরিবারের দাবি, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অবহেলার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
নবজাতকের পরিবার জানায়, গত ৩ আগস্ট আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালে জন্ম নেওয়া অপরিণত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেদিন রাতেই চমেক হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর রাত ৯টা ৫৮ মিনিটে শিশুটির লাইফ সাপোর্ট মেশিনের অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বেড পরিবর্তন করা হয়, কিন্তু নতুন বেডে স্যালাইন ও অক্সিজেন সংযোগ আর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
শিশুটির মামা রনি বলেন, “এরপর বাচ্চাটির শ্বাসকষ্ট শুরু হলে আমরা বারবার নার্স ও ডাক্তারদের বলেছি, কিন্তু কেউ এসে দেখেনি। উল্টো বলা হয় পরিচ্ছন্নকর্মীকে ডাকতে।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৪৫ মিনিট পর একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এসে অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, এতে শিশুটির অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও শিশুটিকে বাঁচাতে পারেননি এবং এক পর্যায়ে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হয়।
নবজাতকের বাবা নোমান বলেন, “নার্সরা চাইলে তাদের কাছে থাকা ইনজেকশন আগেই দিতে পারতেন, কিন্তু দেননি। অবহেলা আর দায়িত্বহীনতায় আমাদের সন্তানকে হারাতে হলো”। এ নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ডা. শাম্মী আক্তার নিরাপত্তাকর্মীদের ডেকে নবজাতকের মামাকে ওয়ার্ড থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহীন বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন সরবরাহে কোনো সংকট নেই বলে দাবি করলেও, চলতি বছরের ৯ মার্চ একই হাসপাতালে বকশিশ না দেওয়ায় অক্সিজেনের পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় আরেক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল, যার তদন্তের কোনো সুরাহা এখনো হয়নি।
