
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একটি এতিমখানায় ৪০ জন এতিমের নামে সরকারি বরাদ্দ নেওয়া হলেও সেখানে প্রকৃত এতিম রয়েছে মাত্র একজন—এমন ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার উত্তর জলদী শহীদ দেলোয়ার হোছাইন দারুল আরকাম মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঁশখালী উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা আকতার হোসাইনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এতিম তালিকায় জালিয়াতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার বেতন কয়েক মাস ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তাদের হুমকি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ এবং বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। বেতনবঞ্চিত শিক্ষকরা হলেন—নাছিমা আকতার, নাছিমা সোলতানা, জোৎস্না আকতার, আকলিমা সোলতানা লিজা, মহিউদ্দিন সাদ্, মহিউদ্দিন মাহবুব, সায়েদ উদ্দিন চৌধুরী ও জহিরুল ইসলাম।
এদিকে, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মাদ্রাসাটির অনুমোদন বাতিল করে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁশখালীর সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাওলানা আকতার হোসাইন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব অনিয়ম চালিয়ে গেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে অভিযুক্ত মাওলানা আকতার হোসাইন আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জামশেদুল আলম জানান, ওলামা লীগ নেতা আকতারের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন এরই মধ্যে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে।
