আত্মরক্ষায় অস্ত্র ব্যবহারের ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দিলেন সিএমপি কমিশনার


বন্দর নগরীতে অভিযানে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা হামলার শিকার হওয়ার পর বাহিনীর সদস্যদের আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র ব্যবহারের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ।

মঙ্গলবার রাতে সিএমপির সকল সদস্যের কাছে পাঠানো এক বেতার বার্তায় তিনি বলেছেন, টহল বা অভিযানকালে কেউ অস্ত্র প্রদর্শন করলে নিজেদের সুরক্ষায় পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে গুলি চালাতে পারবে।

গত সোমবার রাতে নগরীর বন্দর থানার সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ রানা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

এই ঘটনার পর সিএমপি কমিশনারের এই নির্দেশনা এলো।

সিএমপির বন্দর জোনের উপ-কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, আহত কর্মকর্তার সিটি স্ক্যান প্রতিবেদনে মস্তিষ্কে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতটি হাড়ের কাছাকাছি হওয়ায় তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।

সোমবারের ওই হামলার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনার পর থেকে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অস্ত্র বহনে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি হয়েছিল বলে বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ৫ অগাস্টের আগের নির্দেশনা পুনর্বহাল করে সব পুলিশ সদস্যকে অস্ত্র বহনের আদেশ দেন।

বেতার বার্তায় তিনি বলেন, “শুধু রাবার বুলেট দিয়ে কাজ হচ্ছে না।” তাই এখন থেকে টহল, মোবাইল টিম, ডিবি পুলিশ বা চেকপোস্টের কোনো দল আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এসআই রানার সঙ্গে থাকা দুই কনস্টেবলের কাছে শটগান থাকলেও তারা গুলি ছোড়েননি।

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারায় আত্মরক্ষার অধিকারের কথা স্পষ্ট বলা আছে। সোমবারের ঘটনাটি ঠিক তেমনই ছিল। ওরা তো আমার অফিসারের মাথাটাই শরীর থেকে আলাদা করে ফেলতে পারত। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছেন। আমার ফোর্স আত্মরক্ষার জন্য দণ্ডবিধি অনুযায়ী যা যা করণীয়, তাই করবে। কেউ মার খাওয়ার জন্য বসে থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আহত অফিসারের সাথে থাকা দুই কনস্টেবল শুধু দাঁড়িয়ে দেখছিল। তাদের ওপরও হামলা হতে পারত। ওই সময় গুলি না ছোড়ায় তাদের বিরুদ্ধে আমি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কমিশনারের এই আদেশে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তা বলেন, অনেকেই আগের ঘটনাগুলোর কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত (ট্রমাটাইজড)।

একজন কর্মকর্তা বলেন, “অভিযানে গেলে সবসময়ই গণপিটুনি বা সংঘবদ্ধ হামলার ঝুঁকি থাকে। অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ থাকলেও মাঠের পরিস্থিতি দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”

আরেকজন বলেন, “কেউই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু চায় না। তাছাড়া, আমরা গুলি চালালে প্রায়ই দীর্ঘ আইনি তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়।”