মৃতের দাফন নিয়ে সংকট, কবরস্থান বাড়াতে গিয়ে উল্টো মামলায় গ্রামবাসী


কবরস্থান সম্প্রসারণের জন্য পুকুর পাড় ভরাট করাকে ‘পরিবেশ আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখিয়ে দায়ের করা মামলায় পাঁচজন গ্রামবাসী কারাগারে যাওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের রাউজানে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

রোববার দুপুরে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে আয়োজিত কর্মসূচিতে কারাবন্দী ব্যক্তিদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীরা জানান, এলাকার প্রায় দেড় হাজার পরিবারের একমাত্র সামাজিক কবরস্থানটিতে জায়গার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, “একটি কবরের ওপর একাধিক কবর দিতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ২০২৩ সালে সমাজের সবার সম্মতিতে কবরস্থানের পাশের পরিত্যক্ত জলাশয়ের পাড় ভরাট করা হয়, যেখানে ইতোমধ্যে ১০-১৫ জনকে দাফনও করা হয়েছে।”

গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ব্যবসায়ী আজম হোসাইন বলেন, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি এই সামাজিক কাজটিকে পুকুর ভরাট হিসেবে দেখিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করলে খোরশেদ ইসলাম, মো. শাহেদুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন, মো. আলী আকবর, মকবুল আহম্মদ ও খোরশেদ আলমকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা হয়। গত ১০ আগস্ট অভিযুক্তরা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মুহাম্মদীয়া দরবার শরীফের শাহাজাদা মোহাম্মদ হোসাইন শাহ, মেঘনা ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ বেলাল, সমাজসেবক খায়েজ আহমদ, আনিসুর রহমান, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোতালেব ও জাহাঙ্গীর আলম।

বক্তারা বলেন, “মৃত মানুষের শেষ ঠিকানার প্রয়োজনে করা একটি সামাজিক কাজের জন্য যদি নিরীহ মানুষকে জেলে যেতে হয়, তবে এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না।” তারা অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার করে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।