
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘গ্রহণযোগ্য’ করে তোলাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার গভীর অনাস্থা, নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি, ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো এবং সর্বোপরি কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোসহ বহুমুখী প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে নতুন কমিশনকে।
চলতি সপ্তাহে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার প্রস্তুতির মধ্যেই কমিশনকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সর্বশেষ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাবেক সিইসি কেএম নূরুল হুদা এবং কাজী হাবিবুল আউয়ালের কারাবরণের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে না পারলে ‘বিগত নির্বাচন কমিশনের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে’ এবং ‘গলায় গামছা ও কোমরে রশি লাগতে পারে’। এই চাপ ইসির কর্মকর্তাদের জন্য বড় শিক্ষা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘প্রধান চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করতে যাচ্ছি। সেখানে সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া এবং ভোটার উপস্থিতি কীভাবে বাড়ানো যায়, সেসব বিষয় থাকবে।”
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভক্তি কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। বিএনপি চায়, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সংবিধানসহ অন্যান্য সংস্কারের দায়িত্ব নেবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘জুলাই সনদ’ নামে পরিচিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়নের শর্ত দিয়েছে।
এই রাজনৈতিক মতপার্থক্য নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ সই না হলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। দলগুলোর মধ্যে যতই অনৈক্য থাকবে, ততই অন্যরা সুযোগ নেবে।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, দলগুলোর বর্তমান বাহাস মূলত আসন ভাগাভাগি ও দরকষাকষির জন্য এক ধরনের চাপ তৈরির কৌশল।
কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর পাশাপাশি কমিশন আপাতত প্রস্তুতিমূলক কাজেই বেশি মনোযোগী। এর মধ্যে রয়েছে নতুন দল ও পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন, নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধ এবং বিগত আমলে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রগুলো সরিয়ে বিতর্কমুক্ত কেন্দ্রের খসড়া তালিকা তৈরি করা। তরুণদের নির্বাচনমুখী করতে এ বছর তিনবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
