
আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে।
এর পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকের পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি ‘বিতর্কিত’ সংসদ নির্বাচনের ইতিবৃত্তও যুক্ত করা হচ্ছে।
সোমবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়ার একটি প্রস্তাব উঠলেও তা নাকচ হয়ে যায়। তবে ভাষণটি পূর্ণাঙ্গরূপে থাকছে না; মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে এর সংক্ষিপ্ত রূপ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, “অষ্টম শ্রেণির বইয়ে আগেও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল, এবারও সংক্ষিপ্ত আকারে তা থাকবে। একাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
সভায় ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে লেখা ‘আমাদের নতুন গৌরব গাথা’ প্রবন্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ওঠায় তা সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রবন্ধে স্বৈরশাসক হিসেবে শেখ হাসিনার নাম এবং তার সরকারের বাহিনীর ভূমিকার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
একইসাথে, নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বই থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ‘রহমানের মা’ গল্প এবং ‘অশ্রাব্য ভাষা’ ব্যবহারের কারণে ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ নাটকটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পাঠ্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক দলের অতিবন্দনা বাদ দিয়ে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
এর অংশ হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিকের ইতিহাস ও পৌরনীতি বইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একইসাথে ২০০৮ সালের সেনাসমর্থিত নির্বাচন, ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোটের’ নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ‘ডামি’ নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য পাণ্ডুলিপি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
