পড়ালেখা শেষে চাকরির বদলে খামারেই সফল লোহাগাড়ার রাজা


স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরির পেছনে ছোটেননি; বরং বাবার দেখানো পথে শখকে পেশায় পরিণত করে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষি খামার। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার এই তরুণ উদ্যোক্তার নাম রেজাউল বাহার রাজা।

মাছ, মুরগি আর গরু পালনের পাশাপাশি ফল বাগান করে তিনি এখন একজন সফল খামারি, যিনি সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মৎস্য উদ্যোক্তার পুরস্কারও পেয়েছেন। তার এই সাফল্য এখন স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা গ্রামে প্রায় ২০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে রাজার এই কৃষি সাম্রাজ্য। এখানে পুকুরে চাষ হচ্ছে রুই-কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, আধুনিক শেডে রয়েছে সাত হাজার লেয়ার মুরগি, গোয়ালে রয়েছে গরু। পাশেই গড়ে তুলেছেন আম, লিচু, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান।

উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে রেজাউল বাহার রাজা একুশে পত্রিকাকে বলেন, “ছাত্র অবস্থায় বাবার খামারে কাজ করতাম শখের বশে। লেখাপড়া শেষ করে চাকরির চিন্তা না করে শখটাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিই। সমন্বিত খামার সব দিক থেকেই লাভজনক।”

গত ১৯ আগস্ট উপজেলা মৎস্য সপ্তাহ অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সফল উদ্যোক্তার পুরস্কার দেওয়া হয়। রাজা বলেন, “এই পুরস্কার আমাকে আরও উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে খামারটি আরও বড় করার পরিকল্পনা আছে।”

রাজার এই সমন্বিত খামারে এখন প্রায় ৪০ জন কর্মী স্থায়ীভাবে কাজ করছেন। খামারের ব্যবস্থাপক মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, “আমাদের সবার সংসার এই খামারের উপর নির্ভরশীল। রাজা ভাই নিজে সবকিছু তদারকি করেন, যা আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।”

তরুণ এই উদ্যোক্তার প্রশংসা করে লোহাগাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভূষণ দাশ বলেন, “রাজার খামারটি স্থানীয় পর্যায়ে ডিম, দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি শুধু নিজে স্বাবলম্বী হননি, অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তার মতো তরুণেরা এগিয়ে এলে দেশের বেকারত্ব কমবে এবং প্রাণিজ আমিষের উৎপাদনে দেশ আরও স্বনির্ভর হবে। আমাদের দপ্তর থেকে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের সব রকম সহযোগিতা করা হবে।”