লোহাগাড়ায় ফেনসিডিল কাণ্ডের ‘মূল চাবি’ এখন রহিম?

Lohagara thana
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ৪৮ বোতল ফেনসিডিলসহ পুলিশের তিন ‘সোর্স’ আটকের ঘটনায় অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেনের আরও এক ‘সহযোগীর’ নাম সামনে এসেছে। আবদুর রহিম নামে ওই ব্যক্তি ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক রহিমই থানা এলাকা থেকে ফেনসিডিলগুলো নিজের গাড়িতে করে পাচারের জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং এসআই কামাল একটি প্রাইভেটকারে তাকে অনুসরণ করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে চুনতি বাজারে ফেনসিডিলসহ প্রাইভেটকার আটকের আগে লোহাগাড়ার লোহারদীঘি এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে ফেনসিডিলগুলো নাজিম উদ্দিনের প্রাইভেটকারে তোলা হয়। ওই গাড়ি থেকেই পরে রমিজ উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন ও তাজুল ইসলামকে আটক করে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। তাদের আটকের খবর পেয়ে এসআই কামাল ও সিএনজিচালক আবদুর রহিম পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।

লোহাগাড়া থানার সামনের একজন দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সিএনজিচালক আবদুর রহিম এসআই কামালের বিশ্বস্ত সোর্স ছিল। তাকে প্রায়ই কামালের সঙ্গে দেখা যেত। ফেনসিডিল কাণ্ডের পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই কামাল হোসেন। তিনি বলেন, “রহিম নামে আমি কাউকে চিনি না। যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে, ওরা আমার সোর্স ছিল না।” বদলির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, “আমাদের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে আমাকে বদলি করা হয়েছে। সোর্সের বিষয়ের জন্য নয়।”

এদিকে, আত্মগোপনে থাকা আবদুর রহিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে এসআই কামালের মাদক কারবার নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. তফিকুল আলমকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্র-জনতার হাতে তিন সোর্স আটকের পর অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেনকে লোহাগাড়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে গত এপ্রিলে তিনি ‘শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী’ কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন।