‘আয়নাঘর’ স্থাপন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হচ্ছে, গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড


গোপন আটককেন্দ্র বা ‘আয়নাঘর’ স্থাপন ও ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। এতে গুমের অপরাধে জড়িত সরকারি কর্মচারী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষা দিতেই এই নতুন অধ্যাদেশ করা হচ্ছে, যা অনুমোদনের জন্য শিগগিরই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তোলা হতে পারে।

অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী, গুমের শিকার ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা সাত বছরের মধ্যে তাকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা না গেলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা। সাধারণ ক্ষেত্রে, গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কমপক্ষে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, ‘আয়নাঘর’ নির্মাণ ও ব্যবহার এবং গুমের আলামত নষ্ট করার জন্যও সাত বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়াটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গুমের অভিযোগের তদন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী করতে পারবে না। এ ধরনের অভিযোগের তদন্তের একমাত্র এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। গুমের বিচারের জন্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য বা কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে কাউকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তার অবস্থান অস্বীকার বা পরিণতি গোপন করে তাকে আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করাই ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে। যুদ্ধাবস্থা, জরুরি পরিস্থিতি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের মতো কোনো অজুহাতেই গুমকে জায়েজ করা যাবে না।

অধ্যাদেশটিতে গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সুরক্ষার জন্যও বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বৈধ ওয়ারিশরা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তার সম্পত্তি পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ব্যবহার বা হস্তান্তর করতে পারবেন। এছাড়া, গুমের শিকার ব্যক্তির চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা দিতে মানবাধিকার কমিশনের অধীনে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করার কথাও বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, জাতিসংঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’-এ বাংলাদেশ সই করার পর সেই কনভেনশনের আলোকে এবং সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই অধ্যাদেশের খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে।