ঢাকা : আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, গত নির্বাচনের মতো এবারও নির্বাচন ছেড়ে পালাবেন না।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্র মিলনায়তনে ঢাকাস্থ রুশ ফেডারেশন দূতাবাস আয়োজনে ‘রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ উৎসব’ উপলক্ষে মাসব্যাপী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও রুশ বিপ্লবের আলোকচিত্র, পেইন্টিংস, টোরাকোটা, উডওয়ার্ক ও নকশা শিল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার সজিব ওয়াজেদ জয়ের ‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে জয় লাভ করবে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুলের দেওয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা দয়া করে নির্বাচন ছেড়ে পালাবেন না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ছেড়ে পালিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে কথা বলছে এবং বিএনপিও নির্বাচন কমিশনের সংলাপে গেছেন।
বিএনপির সংবিধান সংশোধনের দাবির সমালোচনা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কারো সুবিধার্থে দেশের সংবিধান সংশোধিত হতে পারে না। পৃথিবীর যতগুলো দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে সবগুলো দেশে যেই দল রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছিলেন তারাই নির্বাচনকালীন রাষ্ট্র-পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন সরকারের বর্তমান সময়ে যে ক্ষমতা সে রকম ক্ষমতা থাকে না। তখন একজন ওসি বা থানার দারোগা ট্রান্সফারের ক্ষমতাও থাকে না। কারণ তখন সমস্ত সরকারি প্রশাসন বিশেষশত যেগুলো নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত সবগুলোই নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত হয়। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এই পদ্ধতি যেমন রয়েছে তেমনি ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপানে পৃথিবীর সমস্ত গণতান্ত্রিক দেশে এই পদ্ধতি। কারো আবদার বা সুবিধার্থে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে এই দাবি বা আবদার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অন্যতম মূলমন্ত্র হচ্ছে সমাজনীতি, সেই সমাজনীতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে শুরু করে স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ভাতা চালু করেছে। বাংলাদেশকে সোশাল ওয়েলফেয়ার স্টেইট হিসেবে তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ হাতে নিচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধ একাডেমির চেয়ারম্যান ড. আবুল অাজাদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিচালক আলেকজান্ডার পি ডেমিন, প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর প্রমুখ।
