সংঘর্ষে উত্তাল চবি, আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি, দা দিয়ে কোপানোর ভিডিও: ১৪৪ ধারা জারি


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উপ-উপাচার্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত রোববার দুপুর পর্যন্ত গড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

শনিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক ছাত্রীর সঙ্গে তার ভাড়া বাসার নিরাপত্তারক্ষীর বাগবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংকটের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তারক্ষীর পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাতভর চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী, দুইজন সহকারী প্রক্টর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা আহত হন। এ সময় প্রক্টোরিয়াল বডির গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মো. হায়দার আরিফ রাত ৩টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সবার সহযোগিতা চান। রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ২১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করলেও উত্তেজনা কমেনি। স্থানীয়রা সকালে ফের সড়কে অবস্থান নিলে ভাড়া বাসায় থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়েন। বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ২ নম্বর গেট এলাকায় গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে আবারও ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও ইটের আঘাতে আহত হন। এই দফার সংঘর্ষে আরও শতাধিক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী আহত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে এবং ধানক্ষেতের মধ্যে এক শিক্ষার্থীকে কয়েকজন মিলে দা দিয়ে কোপাতে দেখা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। এর আগে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন বেলা ২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকায় সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে।

যৌথ বাহিনীর বিলম্বে উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মিলন হোসেন সরকার বলেন, “সকাল থেকেই স্থানীয়রা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি আরও আগে আসত, তাহলে অনেক শিক্ষার্থী আহত হতো না। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।”

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।