চবিতে ফের সংঘাত: সহ-উপাচার্যসহ আহত শতাধিক, পরীক্ষা স্থগিত


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রোববার দুপুরে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ রোববারের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতের উত্তেজনার পর রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর ফটক এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। দেড় ঘণ্টা উত্তেজনার পর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।

এ সময় ইটের আঘাতে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন এবং মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

এর আগে শনিবার রাত সোয়া ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে মারধরের জেরে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার সকালে শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা প্রক্টর ও পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এ বিষয়ে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ঘটনার সূত্রপাত

শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর ফটকের কাছে একটি ভবনে ভাড়া থাকা দর্শন বিভাগের এক ছাত্রী বাসায় প্রবেশ করতে গেলে দারোয়ানের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে ধরতে গেলে স্থানীয়রা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এরপর স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে তাদের ওপর হামলা চালায়। তবে স্থানীয়দের দাবি, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরাই প্রথমে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে।