চবিতে সংঘর্ষ: উপ-উপাচার্যসহ আহত ১৮০, মেডিকেলে আহতদের স্রোত


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দুই দিনের দফায় দফায় সংঘর্ষে একজন উপ-উপাচার্যসহ অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার মধ্যরাতে এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা রোববার দুপুর পর্যন্ত চলে।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হচ্ছে। কারও মাথায়, কারও হাতে ব্যান্ডেজ। অনেককে স্ট্রেচারে করে বা সহপাঠীরা কোলে করে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন।

চমেক হাসপাতালে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটের আঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের আহত শিক্ষার্থী রিয়াদ আহমেদ বলেন, “দেশি অস্ত্র নিয়ে স্থানীয় লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছেন। কিছু ভবনে এখনো শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে পুলিশ নীরব ভূমিকায় ছিল।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শনিবার রাতের প্রথম দফার সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন। দুই দিনের ঘটনায় মোট আহতের সংখ্যা ১৮০ ছাড়িয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তাদেরও ১০ থেকে ১৫ জন বাসিন্দা আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার রাতে এক ছাত্রীকে তার বাসার দারোয়ান মারধর করলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাতে যায়। এ সময় স্থানীয়রা দারোয়ানের পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।