মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রলীগ খুন

murderমিরসরাই (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে ছাত্রলীগের অপর এক নেতা খুন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ছাত্রলীগ নেতার নাম নাঈমুল হোসেন চৌধুরী (২১)। গত ২৭ জুন রাতে স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলায় নাঈমুল গুরত্বর আহত হয়। বুধবার (২৯জুন) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

সে নিজামপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ছিলো। নিহত নাঈমুল সাহেরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেরখালী গ্রামের আবদুল মজিদ চৌধুরী বাড়ির মফিজুর রহমান চৌধুরীর ছেলে।

নিহত নাঈমুলের বড় ভাই মোহাম্মদ শরিফ উদ্দীন চৌধুরী জানান, গত ২৭ জুন ইফতারের পর তাদের বাড়ির সামনে একটি গুলির শব্দ হয়। রাত প্রায় ৯টায় তারা টের পান ঘরের বাহিরে বেশ কিছু যুবক জড়ো হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী সাদ্দাম, ইরফান, মনিরুল ইসলাম, শামছুদ্দিনসহ ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আমাদের ঘরের দরোজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা ঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে তারা আমার ছোটভাই নাঈমুলকে টেনে হিঁছড়ে সাহেরখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যায়। ভয়ে আমি লুকিয়ে থাকায় তারা আমাকে পায়নি।

তারা আমার ভাইকে উপর্যুপুরি কুপিয়ে সাহেরখালী বোর্ড অফিসের সামনে ফেলে যায়। এরপর স্থানীয় চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী আমার বাবাকে ফোন করলে আমরা নাঈমুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। অনেক চেষ্টা করেও আমার ভাইকে বাঁচাতে পারিনি। তিনি বলেন, আমার ভাই প্রতিহিংসার রাজনীতির স্বীকার।

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাঈনুর ইসলাম রানার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক এমরান হোসেন সোহেল জানান, নিহত নাঈমুল নিজামপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার ত্রান ও দুর্যোগ ব্যাপস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক ছিল। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সে খুন হয়। তিনি বলেন, এটা দলীয় কোন কোন্দল নয়। তবে কেউ কেউ এই ঘটনাকে দলীয় কোন্দল বলে চালাতে চাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ এমএকে ভূঁইয়া জানান, দুদিন আগে সাহেরখালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় নাঈমুল আহত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সে মারা যায়। তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্যা নেয়া হবে।