
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বিশাল টিলা কেটে সেই মাটি দিয়ে একটি মাদ্রাসার নিচু জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত আমতল ছিদ্দিকিয়া মঈনীয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ গত তিন দিন ধরে এই কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরসহ স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া টিলা বা পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও শত শত মানুষের সামনে দিনদুপুরে আইন লঙ্ঘন করে টিলাটি কাটা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। মাটি কাটার জন্য সেখানে একটি বুলডোজার ও পরিবহনের জন্য একটি ট্রলি রাখা হয়েছে। বুলডোজার ও ট্রলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গত তিন দিন ধরে টিলাটি কাটা হচ্ছে। শুধু মাদ্রাসার জায়গা ভরাটই নয়, রাতের অন্ধকারে ট্রাকে করে সেই মাটি অন্যত্র বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে।
মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সমাবেশের (অ্যাসেম্বলি) জন্য জায়গার সংকুলান না হওয়ায় মাঠ সম্প্রসারণের কাজ চলছে। তাই নিচু জায়গা ভরাট করতে টিলা থেকে মাটি আনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. বাকের আনসারী বলেন, “মাদ্রাসার প্রাত্যহিক সমাবেশের জায়গার সংকটের কারণে এটি কাটা হচ্ছে। আমরা মাটি বাইরে বিক্রি করছি না। পরিবেশ অধিদপ্তর বা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। তবে বিষয়টি শিক্ষা সমন্বয় সভায় উত্থাপিত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর নির্দেশেই কাজটি করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন, “নতুন ভবন নির্মাণ ও শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ সম্প্রসারণ করতে জায়গাটি সমতল করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান ও এলাকার স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই এটা করছি। যেহেতু সম্পত্তিটি মাদ্রাসার, তাই অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এর প্রতিবাদ করতে পারছেন না। তারা প্রশ্ন তোলেন, “যদি অনুমতি ছাড়াই টিলা কাটা হয়, তাহলে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে তারা কীভাবে মাটি কাটে?”
আরেকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাইজভান্ডার দরবারের লোক হওয়ায় খুবই ক্ষমতাধর। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এসব করছেন। পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করলেও আইনের কোনো তোয়াক্কা করছেন না।”
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে টিলা কাটার কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “সেখানে টিলা কাটার খবর আমাদের জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
