তরুণ সাংবাদিকের লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর আগে ওসিকে দায়ী করে গেলেন ভিডিওতে


কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে আমিন উল্লাহ (২৩) নামে এক তরুণ সাংবাদিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর একটি ভিডিও বার্তায় তিনি তার মৃত্যুর জন্য উখিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়ী করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সৈকতের ঝাউগাছ থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। আমিন উল্লাহ উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং দৈনিক ‘আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকার উখিয়া প্রতিনিধি ছিলেন।

সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় সাত মিনিটের একটি ভিডিওতে আমিন উল্লাহ অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে এবং পুলিশ তাকে হয়রানি করছে। তিনি তার ছোট ভাইকে গ্রেপ্তারের জন্য উখিয়া থানার তৎকালীন ওসি আরিফ হোসাইনকে দায়ী করেন।

ভিডিওতে আমিন উল্লাহকে বলতে শোনা যায়, “অত্যাচার বন্ধ না হলে আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নেব। আমি যদি আত্মহত্যা করি, এর দায়ভার থাকবে উখিয়া থানা-পুলিশের।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সম্প্রতি রামু থানায় বদলি হওয়া ওসি আরিফ হোসাইন। তিনি বলেন, “ভিডিওটি আমি ফেসবুকে দেখেছি। সাংবাদিক আমিনকে আমি চিনি না, কখনো তার সঙ্গে কথা হয়নি। ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে করা হতে পারে।”

এদিকে, নিহতের মা আয়েশা খাতুন দাবি করেছেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি এর বিচার চান। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, প্রেমঘটিত সম্পর্ক বা ইয়াবা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান বলেন, “সৈকতের ঝাউগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে তার মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”