‘প্রকৌশলী’ পদবী ও গ্রেড নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ, চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের মহাসমাবেশ


সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ‘বৈষম্যের’ শিকার হচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলে তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রামে বিভাগীয় মহাসমাবেশ করেছেন বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের লালদীঘি ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’ এর ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সমাবেশে যোগ দেন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীরাও।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—সরকারি চাকরিতে নবম গ্রেডে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য থাকা ৩৩ শতাংশ কোটা বাতিল এবং এই পদে নিয়োগের জন্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বাধ্যতামূলক করা; দশম গ্রেডে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কোটা বাতিল করে সবার জন্য পরীক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ যেন ‘প্রকৌশলী’ পদবি ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আইন করা।

সমাবেশে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক বলেন, “ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা দশম গ্রেডে শতভাগ কোটায় এবং নবম গ্রেডে ৩৩ শতাংশ কোটায় চাকরি করছেন। অথচ আমাদের বিএসসি শেষ করে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে নবম গ্রেডে আসতে হচ্ছে। এটি চরম বৈষম্য। দ্রুত আমাদের তিন দফা দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আরও তীব্র আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।”

ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি মানজারে খোরশেদ আলম বলেন, “একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রকৌশল পেশাকে কলুষিত করে রেখেছে। আমরা বিএসসি প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের তিন দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। এ সমস্যা নিরসনে সরকার যে কমিটি করেছে, তাদের অতি দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খান আমিনুর রহমান; অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সভাপতি জানে আলম মো. সেলিম; ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের সহসভাপতি মো. মমিনুল হক এবং চুয়েটের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক বশির জিসান।