- ৪৮ হাজার একর আমন ধান রক্ষায় ‘আলোক ফাঁদ’ বসাচ্ছে কৃষি বিভাগ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৯ হাজার একর আমন ধানক্ষেতকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পরিবেশবান্ধব ‘আলোক ফাঁদ’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৫৫টি কৃষি ব্লকে মোট ২৭৫টি আলোক ফাঁদ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কারণ এটি সাশ্রয়ী এবং রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, আলোক ফাঁদ একটি টেকসই পদ্ধতি। রাতের বেলায় ক্ষেতের মাঝখানে একটি পাত্রের ওপর বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়। সেই আলোতে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পোকামাকড় এসে পাত্রের পানিতে পড়ে আটকে যায়। পরে কৃষি কর্মকর্তারা এসব পোকা পর্যবেক্ষণ করে ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কৃষকদের পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “এই পদ্ধতির সুবিধা হচ্ছে, ক্ষেতে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমে, যা পরিবেশ দূষণ রোধ করে। এটি একটি ব্যয়-সাশ্রয়ী পদ্ধতিও বটে, কারণ এতে কৃষকের কোনো খরচ হয় না।”
উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব শাখার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে চকরিয়ায় ১৯ হাজার ৫০০ হেক্টর বা ৪৮ হাজার ৭৫০ একর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এই বিশাল এলাকার ফসল রক্ষায় আলোক ফাঁদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, “উপজেলার ৫৫টি ব্লকে ২৭৫টি আলোক ফাঁদ বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮টি ইউনিয়নে কাজ শেষ হয়েছে। বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের জন্য এটি বেশ উপযোগী একটি পদ্ধতি, কারণ এতে কীটনাশকের ব্যবহার অনেক কমে যায়।”
তিনি জানান, তিনি এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইশরাত জাহান সুইটি প্রতিদিন সন্ধ্যায় ইউনিয়নভিত্তিক বিভিন্ন ব্লকে উপস্থিত থেকে আলোক ফাঁদ বসানোর কাজ তদারকি করছেন এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

