পাহাড়ি ঢলে ভাঙা সেতু: দুই বছরেও সংস্কার হয়নি, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ


খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি ঢলে একটি সেতু ধসে যাওয়ার দুই বছর পরও তা সংস্কার না হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। উপজেলার বোয়ালখালী ও ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের সংযোগকারী এই সেতুটি না থাকায় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি ছড়া (খাল) পার হতে হচ্ছে।

ঠিকাদার কাজ শুরু করে বন্ধ করে দেওয়ায় সেতু নির্মাণ আটকে আছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

সরেজমিনে দেখা যায়, বোয়ালখালী ও মেরুং ইউনিয়নের দুর্গম বিষ্ণু কার্বারীপাড়া ও হাজাপাড়াসহ পাঁচ-ছয়টি গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়রা জানান, এখানকার শতভাগ মানুষই কৃষিজীবী। সেতু না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য, বাঁশ ও কাঠ মাথায় করে বা দ্বিগুণ খরচে পরিবহন করতে হয়। অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিষ্ণু কার্বারীপাড়ার বাসিন্দা ধনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, “সেতু না থাকায় উপজেলা সদরের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ রোগী বা ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা খুবই জরুরি।”

স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় ত্রিপুরা বলেন, “সেতু না থাকায় আমাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নিয়মিত সমস্যা হয়। কৃষিপণ্য পরিবহনেও খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে সড়কটির সংস্কার ও দুটি সেতু নির্মাণের জন্য ‘শিকদার এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে বরাদ্দকৃত অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, “ঘটনাটি আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগের। তবে আমি পুনরায় সেতুটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইনামুল হাছান বলেন, “সেতুটি আমি পরিদর্শন করেছি। এখানকার মানুষের ভোগান্তি চরম। বিষয়টি এলজিইডিকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”