ইউটিউবে দেখে দেশে ফলের বাগান, ওমান প্রবাসীর তাক লাগানো সাফল্য


প্রবাসে ইউটিউবে ভিনদেশি ফল চাষের ভিডিও দেখে দেশে ফিরে প্রায় দুই বিঘা জমিতে মাল্টা বাগান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রামের রাউজানের ওমান প্রবাসী হামিদ তালুকদার। চার বছরের মাথায় তার বাগানের প্রায় চার শতাধিক গাছে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে ভিয়েতনামী হলুদ মাল্টা।

২০২২ সালে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে রাউজানের কদলপুর গ্রামে এই বাগান শুরু করেন হামিদ। এ বছর বাগান থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

ওমানে থাকাকালে ইউটিউবে হলুদ মাল্টার একটি ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন বলে জানান প্রবাসী হামিদ তালুকদার। তিনি বলেন, “ভিডিওটি দেখার পরই সিদ্ধান্ত নিই, দেশে আমাদের খালি জায়গায় মাল্টা বাগান করব। পরে দেশে এসে বাবার সঙ্গে মিলে এই বাগান শুরু করি।”

হামিদের বাবা মো. হারুণও ছেলের এই উদ্যোগে উৎসাহিত হয়ে দীর্ঘ প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন এবং বাগানের কাজে যুক্ত হন। বর্তমানে কাজের চাপে হামিদ ওমানে থাকলেও বাগান দেখাশোনা করছেন তার ভাই, আরেক ওমান প্রবাসী মো. ইমরান।

বাগানের সাফল্যের কথা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এখন অনেকেই আসছেন ঘুরতে এবং বাগান থেকে সরাসরি প্রতি কেজি ২৫০ টাকা দরে ‘ফরমালিনমুক্ত’ মাল্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। দর্শনার্থীরা বলছেন, বাজারের চেয়ে কম দামে এবং ভালো মানের সুস্বাদু ফল পাচ্ছেন তারা।

এই বাগানে কয়েকজন তরুণের কর্মসংস্থানও হয়েছে। তাদের মধ্যে সবুজ দাশ নামে একজন জানান, তিনি মাসে ১২ হাজার টাকা বেতনে এখানে চাকরি করে পরিবারে সচ্ছলতা এনেছেন।

রাউজান কৃষি বিভাগের কদলপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহমদ শাহ বলেন, “রাউজানে সবুজ মাল্টার চাষ হলেও বাণিজ্যিক আকারে ভিয়েতনামী হলুদ মাল্টার চাষ এটাই প্রথম। এই মাল্টা খেতে অনেক মিষ্টি। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “মাল্টার মতো পুষ্টিকর ফলের উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং দেশের মানুষ ফরমালিনমুক্ত ফল খেতে পারবে।”

মাল্টা ছাড়াও এই বাগানে মিশ্র ফল হিসেবে উন্নত জাতের আম, লেবু, কলা, পেয়ারা ও কাঁঠালের চাষ করা হচ্ছে।