
বাংলাদেশে ২০২১ সালে নারীরা প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার অবৈতনিক গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজ করেছেন, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৬ শতাংশের বেশি।
দেশে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে করা ‘হাউজহোল্ড প্রোডাকশন স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (এইচপিএসএ)’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশ মঙ্গলবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশে মোট অবৈতনিক কাজের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৮.৯ শতাংশের সমান। এই বিপুল পরিমাণ কাজের ৮৫ শতাংশই করেছেন নারীরা। এর বিপরীতে পুরুষদের অবৈতনিক কাজের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।
বিবিএসের ২০২১ সালের ‘সময় ব্যবহার জরিপ’ অনুযায়ী, নারীরা পুরুষের তুলনায় অবৈতনিক গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজে ৭.৩ গুণ বেশি সময় ব্যয় করেন। নারীদের কাজের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান কার্যক্রমগুলো হলো খাবার তৈরি ও ব্যবস্থাপনা (২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা) এবং শিশু ও অন্যদের যত্ন ও নির্দেশনা (২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা)।
অন্তর্বর্তী সরকারের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে অবৈতনিক শ্রমকে জিডিপির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতির পর এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো।
অনুষ্ঠানে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “এই স্বীকৃতি নারীদের মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের জন্য একটি মাইলফলক। আমরা বছরের পর বছর ধরে বলে এসেছি যে নারীরা অগণিত উপায়ে সমাজকে টিকিয়ে রাখছেন, কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা অলক্ষিত ও অমূল্যায়িত থেকে গেছে। অবশেষে সেই স্বীকৃতি এসেছে।”
নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “এই গবেষণা লিঙ্গ-সংবেদনশীল নীতিমালা প্রণয়ন, পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরিতে সহায়ক হবে। নারীর অবৈতনিক কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, “সেবামূলক কাজের এই অবমূল্যায়ন গভীর লিঙ্গীয় বৈষম্য ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতিফলন। সেবা কোনো খরচ নয়, এটি একটি বিনিয়োগ।”
