
প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। টানা অনশনে অংশ নেওয়া ৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জনই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাদের স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।
অসুস্থদের মধ্যে তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসার নিশ্চয়তা, ক্যাম্পাসে নিরাপদ আবাসন, হামলার ভিডিও প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার।
অনশনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে এসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের সাফ কথা, প্রক্টরিয়াল বডি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় বসবেন না এবং অনশন চালিয়ে যাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অনশনকারী শিক্ষার্থী ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, “আমাদের প্রায় সবাই এখন অসুস্থ। প্রশাসন এখনো আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে পারছে না। তারা আমাদের নিরাপত্তার ব্যাপারটিও নিশ্চিত করতে পারছে না। আমি মনে করি, প্রশাসন দায়িত্বে থাকার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান জানান, অনশনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানিয়েছেন, তিনি অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়মিত জানাচ্ছেন।
গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীদের কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ‘ব্যর্থতার’ অভিযোগ তুলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
