‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ পদের দাবি কালেক্টরেট সহকারীদের, ডিসির সমর্থন


পদোন্নতি ও বেতন গ্রেডের বৈষম্য নিরসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত সরকারি মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীরা আবারও তাদের দাবি তুলে ধরেছেন।

শনিবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে ২০২১ সালের একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্য অবসানের জোর দাবি জানানো হয়।

নগরীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দাবির প্রতি সমর্থন জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি বলেন, “সূর্যের আলো নিয়ে চাঁদ যেমন আলো দেয়, তেমনি জেলা প্রশাসনের সহকারীরা সূর্যের মতো কাজ করে বলেই আমরা চাঁদের মতো জনগণের সেবা করতে পারি। অথচ তাদের কাজের পরিধি অনুযায়ী পদোন্নতি হয় না। আমি এই যৌক্তিক দাবির বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করব।”

বাকাসস কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক এস এম আরিফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম জেলার সহ-সভাপতি নূরুল মুহাম্মদ কাদেরের সঞ্চালনায় সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আশ্রাফুল ইসলাম। এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকার আতাউর রহমান, কুমিল্লার মোহাম্মদ হানিফ, যশোরের এস এম আতিয়ার রহমান, বরিশালের আব্দুল বারেক মোল্লা, ভোলার আব্দুল মান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এস এম জাকারিয়া, বরিশালের মাহফুজ আলম, ফরিদপুরের বাবুল হোসেন, সিলেটের নাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রামের স্বপন কুমার দাশ, শরীয়তপুরের মোঃ মহসিন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাহফুজুল আলম এবং বান্দরবানের সুমন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, মাঠ প্রশাসনে একই ধরনের কাজ করেও পদোন্নতিতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সহকারীরা। তারা জানান, ২০১৯ সাল থেকে তারা এই বৈষম্য নিরসনে আন্দোলন করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আটটি পদকে একীভূত করে ‘সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে তা স্থগিত হয়ে যায়।

সম্মেলন থেকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়: আটটি পদ একীভূত করে ‘সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ পদে রূপান্তর, ‘অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদকে পুনরায় ‘কম্পিউটার অপারেটর’ পদে রূপান্তর এবং পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতার সমতা নিশ্চিত করা।

সম্মেলনের শেষে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে এস.এম. আরিফ হোসেনকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ আশ্রাফুল ইসলামকে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।