
কক্সবাজারের মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানা ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা নিয়ে একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে র্যাব ও পুলিশ।
গত কয়েকদিনে র্যাবের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুটি বড় আকারের সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে। এতে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের একাধিক আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
র্যাব-১৫ কক্সবাজারের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান জানান, ১১ সেপ্টেম্বর র্যাবের নেতৃত্বে কালারমারছড়ার ফকিরজোম পাড়া, নোনাছড়ি ও আঁধারঘোনার গহীন পাহাড়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
তিনি বলেন, “অভিযানে ১০টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। সন্ত্রাসীদের একাধিক আস্তানা ও ভ্রাম্যমাণ অস্ত্র কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে। মহেশখালীকে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রমুক্ত করতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

এর দুদিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশের নেতৃত্বে একই ইউনিয়নের ইউনুছখালীর পাহাড়ি এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়।
মহেশখালী থানার ওসি মঞ্জুরুল হক বলেন, “শনিবার ভোরে ইউনুছখালী, ঝাপুয়া ও মারাক্কা ঘোনা এলাকা ঘিরে ফেলে গহীন পাহাড়ে প্রবেশ করে পুলিশ। সন্ত্রাসীদের মাইকিং করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও তারা সাড়া না দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের কয়েকটি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
মূলত গত ১ সেপ্টেম্বর ‘একুশে পত্রিকা’য় ‘মহেশখালীর পাহাড়ে ফের সক্রিয় অস্ত্রের কারখানা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয় বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, “একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তি করে আমরা অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিই। এর মধ্যে গত বুধবার রাতে পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যম সমাজের আয়না, তাদের দায়িত্বশীলতা আমাদের কাজে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।”
এদিকে অভিযান জোরদার করতে মহেশখালীতে র্যাব ও পুলিশের প্রায় দুই শতাধিক রিজার্ভ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধান সড়ক ও পাহাড়ি এলাকাগুলোতে টহল জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই তৎপরতায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও মূল সন্ত্রাসীরা আটক না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে মহেশখালীকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে।
