
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাসের চাপায় এক মাদ্রাসা শিক্ষক নিহতের জেরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার চুনতি বনপুকুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষকের নাম জাকির হোসেন (২৬)।
নিহত জাকির হোসেন চুনতি ইউনিয়নের কালু সিকদারপাড়ার বাসিন্দা আবুল ফজলের ছেলে এবং স্থানীয় রহমানিয়া হেফজখানা ও এতিমখানার শিক্ষক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজারমুখী একটি মারসা পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে বাসটি রাস্তার পাশে হেঁটে যাওয়া জাকির হোসেনকে চাপা দিয়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে আটকে যায়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসের নিচ থেকে জাকিরের মরদেহ উদ্ধার করা হলে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ সড়কের দাবি জানান এবং ঘাতক পরিবহনের চলাচল নিষিদ্ধসহ ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেন।
পরে সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাদের আশ্বাসে রাত ৮টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাকির হোসেনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি মাহবুব আলম আরও জানান, মারসা পরিবহনের বাস ও একটি লেগুনা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছে এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
