তফসিলের আগেই ৭০ শতাংশ আসনে প্রার্থী দেবে বিএনপি

বিএনপি লোগো
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি ‘ডোর টু ডোর’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, তফসিলের পর প্রার্থী ঘোষণা করলে মনোনয়ন নিয়ে দলে বিভেদ তৈরির আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়ায় প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন, যা নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতি এড়াতে এবং একক প্রার্থীর নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রচারণায় গতি আনতেই আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণার এই পরিকল্পনা।

দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবার প্রার্থী মনোনয়নে বড় ধরনের ‘চমক’ থাকতে পারে। অপেক্ষাকৃত তরুণ, ত্যাগী, সৎ এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের বেশি সুযোগ দিতে চায় দলের হাইকমান্ড।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। বলা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা নেই, তারা মনোনয়ন পাবেন না।

বাকি ৩০ শতাংশ আসন জোট বা অন্য কোনো সমঝোতার জন্য ফাঁকা রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর জন্য ‘ডোর টু ডোর’ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ প্রচারণায় দলের পুরুষ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নারী নেত্রীদেরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা হবে।

এ সময় জনগণের কাছে দলের ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ রূপরেখা তুলে ধরা হবে এবং বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী করবে, সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।

বৈঠকে ‘জুলাই সনদ’ নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপি মনে করে, সনদের যে অংশগুলো সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, সেগুলো নির্বাচনের আগে নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। বাকি সাংবিধানিক সংস্কার পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ করবে।

ভার্চুয়ালি এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির এই কৌশলের আগেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২৯৬টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০০টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৬৮টি আসনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে।