
চট্টগ্রামের রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার কারখানার শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনে সব পদ ভাগাভাগি করে নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে শনিবার মাত্র ১৯টি পদের বিপরীতে ১৯ জন প্রার্থী থাকায় পুরো কমিটিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছে।
এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি নেতা মো. শাহাবুদ্দিন নিজেই সভাপতি হচ্ছেন। তিনি জানান, ১৯টি পদের মধ্যে বিএনপি ১২টি, জামায়াতে ইসলামী ২টি এবং অন্যান্যদের জন্য ৫টি পদ রাখা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুজিবুর রহমান।
মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, “অন্যান্যদের মধ্যে রাখা ৫ জন ‘ফ্যাসিবাদের’ সঙ্গে তেমনটা সম্পৃক্ত ছিলেন না।” অন্যদিকে, মুজিবুর রহমান জানান, তিনি অনেক আগে শ্রমিক লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন আর সক্রিয় নন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহফুজুর রহমান জানান, নির্বাচনে মোট ৩৬০ জন ভোটার ছিলেন। ২৩টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হলেও প্রত্যাহারের পর ১৯টি পদের জন্য ১৯ জন প্রার্থীই অবশিষ্ট থাকেন। আগামী ৫ অক্টোবর ভোটের দিন ধার্য ছিল।
এই সমঝোতার ফলে সভাপতি হচ্ছেন শাহাব উদ্দিন, কার্যকরী সভাপতি মো. ইলিয়াছ, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ছালেহ উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি মো. আরিফুর রহমান ও মো. আমজাদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির শাহ ও মো. জামাল উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হচ্ছেন মোহাম্মদ ইউছুপ। অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন অর্থ সম্পাদক মো. ফায়েজুল খন্দকার, দপ্তর সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক মো. আমির হোসেন, আইন সম্পাদক খন্দকার ইয়াছির আরাফাত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. খোকন, শিক্ষা সম্পাদক মো. নুরুল কবির, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান এবং যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক।
এ ঘটনায় কারখানার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক এই বিনা ভোটের নির্বাচনকে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
