পল্লীবিদ্যুতের ‘অবহেলায়’ প্রাণ গেল গৃহবধূর: ‘এখন দেখার সময় নেই’, বললেন কর্মকর্তা


চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাড়ির ছাদে শুকানো কাপড় আনতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের অরক্ষিত তারে জড়িয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে, যার পর স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা বলেছেন, “ঘটনা তো ঘটে গেলো, এখন দেখার আর সময় নেই।”

রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ভিংরোল গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আসমা আক্তার (২৫) ওই এলাকার মোহাম্মদ তারেকের স্ত্রী। তিন বছরের এক ছেলে ও ছয় মাসের এক কন্যাসন্তান রয়েছে তার।

পরিবারের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ওই বৈদ্যুতিক সংযোগ সরানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের শ্বশুর মাস্টার আশরাফ আলী বলেন, “এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটা হত্যাকাণ্ড। আমাদের বাড়ির ছাদের ওপর দিয়ে যাওয়া কভারবিহীন তারটি সরানোর জন্য আমরা একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। সেই তারেই আজ আমার পুত্রবধূ প্রাণ হারালো।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, আসমা আক্তার বিকেলে ছাদে শুকানো কাপড় তুলতে গেলে সেখানে থাকা অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোরশেদুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন স্থানে এরকম অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ রয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে লাইনগুলো সরানোর ব্যবস্থা নেবো।”

দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ঘটনা তো ঘটে গেলো। এখন দেখার আর সময় নেই।”

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, “এটি খুবই মর্মান্তমান্তিক একটি ঘটনা। ঘরের ছাদের ওপর থাকা ঝুঁকিপূর্ণ তারটি সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”