ইউরোপের পর সাইবার হামলার ‘অশনিসংকেত’ বাংলাদেশের বিমানবন্দরে


লন্ডনের হিথ্রোসহ ইউরোপের কয়েকটি প্রধান বিমানবন্দরে সাইবার হামলার পর দেশের সব বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এই প্রেক্ষাপটে করণীয় চূড়ান্তে রোববার বেবিচকে একটি অনির্ধারিত জরুরি বৈঠক হয়েছে। সম্প্রতি বেবিচকের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও একটি সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বেবিচকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “ইউরোপের কয়েকটি বিমানবন্দরে সাইবার হামলা ও হামলার ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের বিমানবন্দরগুলোয় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতেও সর্বোচ্চ নজরদারি করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সাইবার হামলার কারণে ইউরোপে স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন ও বোর্ডিং সিস্টেম অচল হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব বিমানবন্দরে পাঠানো নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, সাইবার হামলার ঝুঁকির সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের মতো সুরক্ষিত বিমানবন্দরে হামলা বাংলাদেশের জন্য একটি ‘অশনিসংকেত’।

এভিয়েশন-বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “ইউরোপের ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আমাদের অনেক শত্রু রয়েছে, যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাইবার হামলা চালাতে পারে। বেবিচককে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

বেবিচক সূত্র জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি বোর্ডসভায় সাইবার ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বেবিচক একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো’ হওয়ায় এর সাইবার ঝুঁকি মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক।

সম্প্রতি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সিও বেবিচকের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে তা মোকাবিলায় অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

এরই মধ্যে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে সাইবার হামলার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।