
আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করবে এবং বিএনপিকে বিরোধী দলে যেতে হবে— দলটির এক নেতার এমন মন্তব্যের পর দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির পুরোনো মিত্রতার সম্পর্ক এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।
আওয়ামী লীগবিহীন ভোটের মাঠে এক সময়ের মিত্র এই দুই দলের পরস্পরবিরোধী এমন অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে, যা আগামী নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই প্রায় সব রাজনৈতিক ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি জামায়াত তাদের দাবির পক্ষে মাঠে নামায় এই বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
গত শুক্রবার চট্টগ্রামে এক সমাবেশে জামায়াতের আঞ্চলিক পরিচালক মুহাম্মাদ শাহজাহান বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠনের মতো আসনে বিজয়ী হবে। জামায়াতে ইসলামী সরকারি দল হবে, বিএনপিকে বিরোধী দলে যেতে হবে।”
জামায়াত নেতার এই বক্তব্যের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আপনারা কি নির্ধারণ করে দিয়েছেন বিএনপি বিরোধী দলে যাবে, নাকি জনগণ করবে? আপনারা যখন এত বেশি আত্মবিশ্বাসী হলেন যে সরকারি দল হবেন, তাহলে নির্বাচনে আসেন না কেন? বিভিন্ন বাহানা দিয়ে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছেন কেন?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সাফল্য এবং বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা জামায়াতকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। দলটি এখন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির মতো দাবিতে সমমনাদের নিয়ে মাঠে নেমেছে।
দুই দলের নেতাদের মধ্যে কথার লড়াইয়ের পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগও বাড়ছে। সম্প্রতি বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি ছাত্রশিবিরকে ‘হেলমেট বাহিনী’ ও বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকারী বলে মন্তব্য করেন। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিবিরের পক্ষ থেকে ওই বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক গেছেন দুই দলের শীর্ষ নেতারা।
ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরে তাদের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনা হতে পারে।
