
যুক্তরাজ্যের আবাসন খাত, বিশেষ করে লন্ডনের বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনাবেচায় কয়েক দশক ধরে অস্বচ্ছতার অভিযোগ থাকলেও এবার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর তদন্তের কারণে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে দেশটি।
অবৈধ অর্থে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যে সম্পদ গড়া এবং তাদের জবাবদিহিতার বাইরে থেকে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সোমবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক তদন্ত যুক্তরাজ্যকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে যে, কীভাবে দেশটি পাচারকারীদের অর্থের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হলো।
এতে বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে বলা হয়, গত মে মাসে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) প্রায় ৯ কোটি পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল সম্পত্তি জব্দ করে, যা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যের এক তদন্তে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ৪০ কোটি পাউন্ড মূল্যের আরও সম্পত্তির সন্ধান পাওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লন্ডনের মেফেয়ার এলাকার ম্যানশন এবং সারে কাউন্টির বিশাল এস্টেট।
এসব সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ হারান বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
একইভাবে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এবং তার ঘনিষ্ঠদের লন্ডনে থাকা সম্পত্তির উৎস নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি)। গত জুনে এমএসিসির অনুরোধে মাহাথিরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দাইম জায়নুদ্দিনের প্রায় ১৮ কোটি ডলার মূল্যের বাণিজ্যিক ভবন ও বিলাসবহুল বাড়ি জব্দ করে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাচার হওয়া অর্থ প্রায়ই শেল কোম্পানি ও অফশোর কাঠামোর মাধ্যমে এমনভাবে সরানো হয় যে এর উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জের মতো ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চলগুলো ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ হিসেবে পাচারকারীদের সহায়তা করে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, “বছরের পর বছর ধরে আমরা স্বৈরশাসকদের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছি, যাতে তারা তাদের সম্পদ নিয়ে এ দেশে আসে।”
