
চট্টগ্রাম নগরে পাঁচলাইশ মডেল থানার কাছাকাছি এক নারী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন; মোটরসাইকেলে করে আসা ছিনতাইকারীরা রিকশায় থাকা ওই নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ কেড়ে নিয়ে গেছে, যাতে পৌনে চার লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন ছিল।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে পাঁচলাইশ মডেল থানার অদূরে বেলভিউ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বেবী আক্তারের স্বামী নুরুল আবচার বাদী হয়ে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে সোমবার পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া থেকে চিকিৎসার জন্য শহরে মেয়ের বাসায় এসেছিলেন বেবী আক্তার ও তার স্বামী নুরুল আবচার। তাদের মেয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মেয়ের সিটি স্ক্যান করানোর সময় দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি ডায়মন্ডের নাকফুল ও গলার চেইনসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী খুলে ভ্যানিটি ব্যাগে রাখা হয়। পরে বেবী আক্তার নিরাপত্তার জন্য মেয়ের ব্যাগটি নিজের ব্যাগের ভেতর রাখেন।
একইদিন রাতে ন্যাশনাল হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে রিকশায় করে মেয়ের কাছে পার্কভিউ হাসপাতালে ফেরার পথে পাঁচলাইশ মডেল থানার সামনে তারা ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ সময় চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি বলে তারা জানান।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ছিনতাই হওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
এদিকে, একই সময়ে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন আরেক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। টেম্পোতে করে বাসায় ফেরার পথে চলন্ত গাড়ি থেকে তার আইফোন-১৬ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায়ও পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা তাদের জামাতা নয়া দিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার আরফাত হোছাইন বিপ্লবকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন।
তিনি বলেন, “আমরা মামলা নিয়েছি। এসআই তামজিদকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. তামজিদ হোসাইন বলেন, “মামলাটি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। বাদীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ তদন্তের কাজ শুরু করা হবে।”
মানবাধিকার সংগঠক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, “সম্প্রতি চট্টগ্রামে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পাঁচলাইশের মতো জনবহুল এলাকা, তার উপর থানার ১০০ গজের মধ্যে জানমালের নিরাপত্তা না থাকাটা খুবই উদ্বেগজনক। আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নগরবাসীর নিরাপত্তায় আরও তৎপর হবে।”
