
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে বলে বিশ্বাস করেন জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪০ শতাংশ ভোটার। ২৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোটারের বিশ্বাস জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা’ শীর্ষক এক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় আর্কাইভস ভবনের মিলনায়তনে এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াত সরওয়ার। তিনি জানান, এটি তাদের দ্বিতীয় দফার দ্বিতীয় পর্বের জরিপ। ৬৪ জেলার ৫২১টি প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিটে মোট ১০ হাজার ৪১৩ জন ভোটারের ওপর জরিপটি চালানো হয়, যাদের মধ্যে ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ শহরের এবং ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রামের বাসিন্দা।
জরিপের ফলাফলের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ এম শাহান এবং ভয়েস ফর রিফর্ম এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।
জরিপে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়েও ভোটারদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ মনে করেন, দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে প্রায় সমসংখ্যক, অর্থাৎ ৪৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আগে দলটির বিচার হওয়া প্রয়োজন।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থন ১৪ দশমিক ০৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৯ দশমিক ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি (৪১.৩%) ও জামায়াতে ইসলামীর (৩০.৩%) সমর্থনের হার স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া এনসিপি ৪.১০ শতাংশ ও ইসলামী আন্দোলন ৩.১০ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।
জরিপে বলা হয়, যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেয়, তবে বিএনপি (৪৫.৬%) ও জামায়াতে ইসলামী (৩৩.৫%) প্রধান সুবিধাভোগী হবে। সেক্ষেত্রে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন।
জরিপ অনুসারে, ভোটারদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু অর্থনীতি থেকে সরে নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। যদিও ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন, তবে ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য পরবর্তী সরকারের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, উত্তরদাতাদের একটি বড় অংশ ভারত (৭২.২%) এবং পাকিস্তান (৬৯.০%) উভয়ের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক দেখতে চান।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ৬৫.৫ শতাংশ ভোটার। এরপরই রয়েছে প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড (১৫.৮৭%) এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক (১৪.৭৬%)। লক্ষণীয়ভাবে, মাত্র ৫ শতাংশ ভোটার দলের নির্বাচনী ইশতেহারকে গুরুত্ব দেন।
